পোস্টগুলি

মহাভারত

ছবি
মহাভারত মহাভারত-এর মূল উপজীব্য বিষয় হল কৌরব ও পাণ্ডবদের গৃহবিবাদ এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলি। তবে এই আখ্যানভাগের বাইরেও দর্শন ও ভক্তির অধিকাংশ উপাদানই এই মহাকাব্যে সংযোজিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ – এই চার পুরুষার্থ-সংক্রান্ত একটি আলোচনা । সংযোজিত হয়েছে এই গ্রন্থে। মহাভারত-এর অন্তর্গত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা ও উপাখ্যানগুলি হল ভগবদ্গীতা, দময়ন্তীর উপাখ্যান, রামায়ণ-এর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠান্তর ইত্যাদি; তবে এগুলিকে মহাভারত-রচয়িতার নিজস্ব সৃষ্টি বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাভারত-এর রচয়িতা ব্যাসদেব। অনেক গবেষক এই মহাকাব্যের ঐতিহাসিক বিকাশ ও রচনাকালীন স্তরগুলি নিয়ে গবেষণা করেছেন। অধুনা প্রাপ্ত পাঠটির প্রাচীনতম অংশটি মোটামুটি ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ রচিত হয়।মহাভারতের মূলপাঠটি তার বর্তমান রূপটি পরিগ্রহ করে গুপ্তযুগের প্রথমাংশে (খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দী)। মহাভারত কথাটির অর্থ হল ভরত বংশের মহান উপাখ্যান। গ্রন্থেই উল্লিখিত হয়েছে যে ভারত নামে ২৪,০০০ শ্লোকবিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্রতর আখ্যান থেকে মহাভারত মহাকাব্যের কাহিনিট...

স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর দর্শন ।

ছবি
স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর দর্শন ।  স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন , “ উপনিষদের প্রতি পাতায় আমাকে যার কথা বলা হয়েছে তা হল সাহস । এইটিই সবচেয়ে মনে রাখবার কথা । আমার জীবনে এই একটি বড়াে শিক্ষাই আমি নিয়েছি । হে মানুষ ! বীর্যবান হও , দুর্বল হােয়াে না ! ”  স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন , “ জাতি হিসেবে আমরা যা কিছু । পেয়েছি সবই আমাদের দুর্বল করেছে । ” মনে হয় সেই সময় জাতির জীবনের একটিই উদ্দেশ্য ছিল , কী করে আমাদের দুর্বল থেকে দুর্বলতর করা যায় । শেষ পর্যন্ত আমরা কেচোতে পরিণত হয়েছি , যে কেউ তরবারি দেখিয়ে আমাদের পদানত করেছে তার । পায়ের তলায় থাকবার জন্যে ।  আমি যা চাই তা হল লৌহনির্মিত পেশী এবং স্বাস্থ্য । শক্ত ধাতুতে নির্মিত মন । পৌরুষের পূজা করাে ।  সব শক্তি তােমার মধ্যে আছে । তুমি সব কিছু করতে পার , তা বিশ্বাস করাে ভেবােনা তুমি দুর্বল । তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার । কারও নির্দেশ ছাড়াই । সবশক্তি তােমার মধ্যে আছে । উঠে দাঁড়িয়ে | তােমার ভিতরকার দেবত্বকে প্রকাশ করাে ।  তােমার দেশ বীর চায় , বীর হও । পাহাড়ের মত দৃঢ় হও । সত্য সর্বদা জয়ী হয় , দেশের...

মনুস্মৃতি

ছবি
মনুস্মৃতি   আনুমানিক ৩৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে একদল আক্রমণকারী উত্তর পশ্চিম সীমান্ত থেকে এসে এ দেশ জয় করে নেয় । তারা শুধু যে অধিবাসীদের আধিভৌতিক জীবনকেই নিজেদের অধীনে নিয়ে । আসে তা নয় , সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তারা আক্রমণ চালাতে চায় । এমনকি বেদ - এর উপরেই তারা ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায় । বেদ ধর্মীয় ক্ষেত্রে , ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে , সামাজিক আচার - আচরণে জীবন যাত্রার পথে আলােকসম্পাত করে ভারতীয়দের পথ প্রদর্শন করত এবং একেশ্বরবাদী ছিল । বলপূর্বক তাকে পারসিক সূর্য এবং ইন্দ্র - উপাসনা এবং বলিদানের ধর্মীয় রীতির সঙ্গে মিশ্রিত করে দেওয়া হয় । মুনি - ঋষিরা অনেকে দক্ষিণ ভারতে পলায়ন করেন , হিমালয়ের গুহাকরে আশ্রয় গ্রহণ করেন । পারস্য এবং এশিয়া মাইনর থেকে আগত শাসকগণ সমাজকে বিভক্ত করে তাকে দুর্বল এবং পদানত করে নিজেদের রাজকার্যে ব্যবহার করতে চায় ।  পরে আনুমানিক ৩২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মনু ( অনেকের দৃঢ় বিশ্বাস  তিনি জার্মান বংশােদ্ভূত ছিলেন ) সামাজিক কর্ম - বিভাগের এক কঠোর বিধানের প্রবর্তন করেন এবং তার নাম দেন মনুস্মৃতি । মনু | নিজে এক প্রতিভাশালী ব্যক্ত...

বেদের চনৎকার কিছু শ্লোক।

ছবি
বেদের শ্লোক  বেদ অখিলে - ধর্মমূলম্ ।  বেদ - সমূহ নিখিল বিশ্বের সকল ধর্মের মূল ।   মধু মে জিহবায়াং দধাতু পরমেশ্বর  যেনা হং সর্বপ্রিয়ঃ সর্বজনেভ্যঃ ভূয়ামম ।  অর্থ_ আলোকের দেবতা ! আমাকে মধুর মিষ্টত্বে পূর্ণ করাে , যেন আমি জনসমষ্টিকে বেদের অপরূপ বাণী শােনাতে পারি ।  নাসদাসীন্নো সদাসীৎ তদানীং নাসীদ্ৰজো নাে ব্যোমা পরাে যৎ ।  কিমাবরীবঃ কুহ কস্য শর্মন্নম্ভঃ কিমামীদ্ গহনং গভীরম্ ।  ন মৃত্যুরামীদমৃতং ন তর্হি ন রাত্রয়া অহ্ন আসীৎ প্রকেতঃ ।  আনীদবাতং স্বধয়া তদেকং তস্মাদ্ধান্যন্ন পরঃ কিং চনাসঃ ।  তমঃ আসীৎ তমসা গৃহ্যমগ্রে অপ্রকেতম্ সলিলং সর্বমা ইদম্ ।   তুচ্ছয়েনাতৃপিহিতং যদাসীৎ তপসস্তনহিনাজায়তৈকম্ ।  অর্থ- সেই সময়ে অস্তিত্ব ছিল না , অনস্তিত্বও ছিল না । বায়ু ছিল না , আকাশ ছিল না , অতল গভীর জলরাশি ছিল না , মৃত্যু ছিল না , অমরত্বও ছিল না , দিবস ছিল না , রাত্রিও ছিল না । একমাত্র সেই পুরুষ ছিলেন , তিনি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না । সমস্ত কিছু । অন্ধকার ও শূন্য ছিল । পরে বায়বীয় বস্তুতে আচ্ছন্ন হলাে । তারপরে সৃ...

বেদের বৈশিষ্ট্য কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ।

ছবি
বেদের বৈশিষ্ট্য কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে আলােচনা করা হলো :  ( ১ ) প্রাকৃতিক দৃষ্টিকোণ :  বিভিন্ন দেবতাদের উদ্দেশ্যে বৈদিক স্তবস্তুতি ও প্রার্থনা সমূহ প্রাচীনতম ধর্মের ভাণ্ডার । কিছু কিছু বৈদিক কর্মকাণ্ড প্রকৃতিকে আরাধনা করার সাথে সম্পৃক্ত । ঋকবেদের প্রধান দেবতা ছিল মানুষের কল্যাণে নিয়ােজিত প্রকৃতি । অথর্ব বেদ প্রাচীনতম যাদুমন্ত্র ও তান্ত্রিক পদ্ধতির সংগ্রহ সমূহ ।  বৈদিক আর্যগণ প্রণব মন্ত্র , ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর ছাড়াও ইন্দ্র , অগ্নি , সােম ইত্যাদির উপাসনাকে প্রাধান্য দিতেন । দেবতা অগ্নি , আলাে যা ছাড়া সৃষ্টি সম্ভব নয় , তার উদ্দেশ্যেই দুই শতাধিক স্তব স্তুতি নিবেদিত হয়েছে । আগুনের উদ্দেশ্যে নিবেদনের লক্ষ্য হচ্ছে অশুভ প্রভাবকে দূরীকরণ । অগ্নি যাত্রাকে সুগম করে , দেহকে উত্তপ্ত করে এবং দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করে । ইন্দ্র ঋগ্বেদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেবতাদের রাজা । প্রাথমিকভাবে তাকে সৃষ্টির দেবতা বলেই মনে করা হয় । ঋগ্বেদের প্রায় এক চতুর্থাংশ স্তবস্তুতি ইন্দ্রের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত । সােমদেবতার উদ্দেশ্যে একশত চৌদ্দটি স্তবকীর্তন ঋগ্বেদে স্থান পেয়েছ...

ভগবান ও মনীষীদের চরিতামৃত

ছবি
হিন্দুধর্মের বিকাশের পথে সাহায্য করেছে ধর্মের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস , সত্য প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা , মহামানবের কর্মময় জীবনের আদর্শ অনুসরণ এবং বিভিন্ন উপাখ্যান হতে লব্দ শিক্ষা । শিক্ষার রাজ্যে মহাপুরুষদের চরিত্র এক বিশাল ভাণ্ডার । উপাখ্যান সমূহ হতে প্রাপ্ত দিক নির্দেশনাও অফুরন্ত । তাই মাত্র কয়েকটি মহিমার বর্ণনা ও উপাখ্যান সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণ : চরিতামৃত শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু : চরিতামৃত জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য : চরিতামৃত শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব : চরিতামৃত অন্যান্য মনীষী :   এমনি অগণিত মনীষীর অপরিসীম পরিশ্রম ও অগাধ জ্ঞানভাণ্ডার এবং অফুরন্ত ভক্তির বলে সনাতন ধর্ম যুগােপযােগী ধর্ম হিসেবে সহস্র প্রতিকুলতার মাঝে কালজয়ী ধর্মরূপে পৃথিবীতে শতকোটি মানুষের কঠিন বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু রূপে বিরাজ করছে । নদের নিমাই শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভর , দর্শনকে ভিত্তি করে চৈতন্য চরিত্রামৃতসহ বিবিধ গ্রন্থের প্রণেতা শ্রীক কবিরাজ গােস্বামী ভক্তির সাগরে এক অবিশ্বাস্য জোয়ার এনেছেন অনুসারী রঘুনাথ দাস গােস্বামী , নিত্যানন্দ , ঈশ্বরপুরী , শ্রীরূপ - সনাতন , কে মিত্র প্...

বিষ্ণু দশ অবতারের পরিচয়

ছবি
বিষ্ণু দশ অবতারের পরিচয়  ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন যুগে দশটি অবতারে নিজেকে প্রকাশ করেছেন । যেমন - মৎস্য , কূর্ম , বরাহ , নৃসিংহ , বামন , পরশুরাম , রাম , বলরাম , বুদ্ধ এবং কল্কি । লক্ষণীয় , দশ অবতারের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের উল্লেখ নেই । এর কারণ হচ্ছে , অন্যান্য অবতার ভগবানের অংশবিশেষ । শ্রীমদ্ভাগবতপুরাণে বলা হয়েছে কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্ । অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ভগবান । তাই দশ অবতারের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের উল্লেখ নেই ।  এখানে সংক্ষেপে ভগবান বিষ্ণুর দশ অবতারে পরিচয় দিচ্ছি :  ১ । মৎস্য অবতার   হাজার - হাজার বছর আগে সত্যব্রত নামে এক ধার্মিক রাজা ছিলেন । তাঁর রাজত্বকালে হঠাৎ পৃথিবীতে নানারূপ অন্যায় - অত্যাচার দেখা দেয় । রাজা তখন জগতের কল্যাণের জন্য ঈশ্বরের করুণা কামনা করেন । একদিন জলাশয়ে স্নানের সময় রাজা সত্যব্রতের নিকট একটি পুটি মাছ এসে প্রাণ ভিক্ষা চায় । রাজা কমণ্ডলুতে করে মাছটিকে বাড়ি নিয়ে এলেন । মাছটির আকার ভীষণভাবে বাড়তে থাকে । তাকে পুকুর , সরােবর , নদী , যেখানেই রাখা হয় , সেখানেই আর ধরে না । রাজা ভাবলেন , ইনি নিশ্চয়ই নারায়ণ । নারায়ণ বিষ্ণুর আরেক নাম ।...