চতুর্থ মণ্ডল: সুক্ত - ৩৪
অনুবাদ
১। হে মেধাবী অশ্বিদ্বয়! তোমরা অদ্য তিন বার আমাদরে জন্য এস। তোমাদের রথ বহুব্যাপী, তোমাদের দানও বহু ব্যাপী? যেরূপ রশ্মিযুক্ত দিবস ও হিমযুক্ত রাত্রের মধ্যে পরস্পর নিয়মরূপ সম্বন্ধ আছে, সেরূপ তোমাদের উভয়ের মধ্যেও আছে। তোমরা অনুগ্রহ করে মেধাবী ঋত্বিকদের বশবর্তী হও।
২। তোমাদের মধুর খাদ্যবাহী রথে তিনটি দৃঢ় চক্র আছে; তা সকল দেবগণ চন্দ্রের ভার্ষা বেনার সাথে যাত্রা করবার সময় জেনেছে (১); সে রথের উপর অবলম্বনের জন্য তিনটি স্তম্ভ স্থাপিত আছে। হেজ অশ্বিদ্বয়! সে রথে রাত্রে তিন বার ও দিনে তিন বার গমন কর।
৩। হে অশ্বিদ্বয়! তোমরা এক দিনে তিন বার যজ্ঞানুষ্ঠানের দোষ সংশোধনকর; অদ্য তিন বার যজ্ঞের হব্য মধুর রস দ্বারা সিক্ত কর। রাত্রে দিনে তিন বার বলকারী অন্ন দ্বারা আমাদের ভরণ কর।
৪। হে অশ্বিদ্বয়! আমাদরে গৃহে তিন বার এস; আমাদরে অনুকুল ব্যাপারে নিযুক্ত জনের নিকট তিন বার এস; তোমরা রক্ষণীয় জনের নিকট তিন বার এস; আমাদের তিন প্রকার শিক্ষা দাও; আমাদের তিন বার আনন্দজনক ফল প্রদান কর; যেরূপ ইন্দ্র জল দান করেন, সেরূপ তিন বার আমাদরে অন্ন দাও।
৫। হে অশ্বিদ্বয়! তিন বার আমাদরে ধন প্রদান কর; দেব যুক্ত কর্মানুষ্ঠানে তিন বার আগমন কর; তিন বার আমাদরে বুদ্ধি রক্ষা কর; তিন বার আমাদের সৌভাগ্য সম্পাদন কর; তিন বার আমাদের অন্ন প্রদান কর; তোমাদের ত্রিচক্র রথে সূর্যের দুহিতা আরুঢ়া হয়েছেন।
৬। হে অশ্বিদ্বয়! আমাদের দিব্যলোকের ঔষধি তিন বার প্রদান কর; পার্থিব ঔষধি তিন বার প্রদান কর; অন্তরীক্ষ হতে ঔষধি তিন বার প্রদান কর; শংযুর (২) ন্যায় আমার সন্তানকে সুখ দান কর। হে শোভনীয় ঔষধিপালক! তোমরা তিনটি ধাতু বিষয়ক (৩) সুখ প্রদান কর।
৭। হে অশ্বিদ্বয়! তোমরা আমাদের পূজনীয়, প্রতিদিন তিন বার পৃথিবীতে আগমন করে তিনটি কক্ষাযুক্ত কুশোপরি শয়ন কর। হে নাসত্য রথীদ্বয়! আত্মারূপ বায়ু যেরূপ শরীর সমূহে আগমন করে তোমরা সেরূপ তিনটি যজ্ঞস্থানে আগমন কর (৪)
৮। হে অশ্বিদ্বয়! সপ্ত মাতৃ জল দ্বারা (৫) তিনটি সোমাভিষব প্রস্তুত হয়েছে। তিনটি কলস প্রস্তুত হয়েছে, হব্য প্রস্তুত হয়েছে। তোমরা তিন জগৎ হতে উর্ধ্বে গমন করে দিবারাত্র সমন্বিত আকাশের সূর্যকে রক্ষা করেছিলে।
৯। হে নাসত্য অশ্বিদ্বয়! তোমার ত্রিকোণ রথের তিনটি চক্র কোথায়? তিনটি সনীড় বন্ধুর কোথায় (৬)? বলবান গর্ন্দভ কখন তোমাদের রথে যুক্ত হয়ে আমাদরে যজ্ঞে আনবে?
১০। হে নাসত্য অশ্বিদ্বয়! এসহবাদান করছি; তোমাদের মধুপায়ী মুখ দ্বারা মধুর হব্য পান কর; ঊষাকালের পূর্বেই সূর্য তোমাদের বিচিত্র ও ঘৃতবৎ রথযজ্ঞে আগমনার্থে প্রেরণ করেছেন।
১১। হে নাসত্য অশ্বিদ্বয়! ত্রিগুণ একাদশ দেব (৭) গণের সাথে মধু পানার্থে এখানে এস, আমাদরে আয়ু বর্ধন কর; পাপ খনডন কর; বিদ্বেষীদের প্রতিষেধ কর; আমাদের সঙ্গে অবস্থান কর।
১২। হে অশ্বিদ্বয়! ত্রিকোণ রথ দ্বারা আমাদের সম্মুখে বীরযুক্ত ধন আন; রক্ষার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান করছি, তোমরা শ্রবণ করছ, আমাদরে বৃদ্ধি সাধন কর ও সংগ্রামে বলদান কর।
টীকা
১। যখন সোমের বেনার সাথে বিবাহ হয়, তখন নানাবিধ খাদ্যযুক্ত তিন চক্রযুক্ত প্রৌঢ়রথে আরোহণ করে অশ্বিদ্বয় গিয়েছিলেন তা সকল দেব জেনেছেন। সায়ণ।
২। বৃহস্পতির পুত্র শংযুকে অশ্বিদ্বয় পালন করেছিলেন। সায়ণ।
৩। বাত, পিত্ত ও শ্লেষ্ম এই শরীরের তিনটি ধাতু। সায়ণ।
৪। ঘৃত, পশু ও সোমরসরূপ তিনটি বেদী। সায়ণ।
৫। সপ্ত সংখ্যকা। গঙ্গাদ্যা নদ্যো মাতরৎ উৎপাদিকা যেষাং জলবিশেষাণাং তে। সায়ণ
৬।বে যুক্ত কর্মানুষ্ঠানে তিন বার আগমন কর; তিন বার আমাদরে বুদ্ধি রক্ষা কর;
৭। এ ঋকে ও বেদের অন্যান্য স্থলে ৩৩ দেবের উল্লেখ আছে। এ ৩৩ জন দিক দেবকে? তৈত্তিরীয় সংহিতায় আছে যে আকাশে ১১, পৃথিবীতে ১১ এবং অন্তরীক্ষে ১১ জন দেব। তে, সং,
১।৭।১০।১ শর্ত পথব্রাহ্মণে বলে ৮ বসু, ১১ রুদ্র, ১২ আদিত্য দ্যু অর্থাৎ আকাশ এবং পৃথিবী এই ৩৩ জন দেবতা। শ,ব্রা,
৭।৫।৭।২। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ বলে যে ১১ প্রবাজ দেব, ১১ অনুযাজ দেব ও ১১ উপযাজ দেব, এই ৩৩ দেবতা। ঐ.ব্র.
২।১৮। বিষ্ণুপুরাণে বলে ১১ রুদ্র, ১২ আদিত্য, ৮ বসু, এবং প্রজাপতি ও বষটকার এই ৩৩ জন দেবতা। যাস্কের মতে দেব ৩ জন মাত্র, তাহা ১ সুক্তের ১ ঋকের টীকায় দেখান হয়েছে। এ ৩৪ সুক্তের ১১ ঋকে ৩৩ জন দেবের উল্লেখ পেলাম। পরে পুরাণাদি গ্রন্থে ৩৩ কোটি দেবের উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলতঃ ভিন্ন ভিন্ন ঐশ্বরিক কার্য বাদৃশ্যকে ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়া দেবের সংখ্যা বদি্ধি করা হয়েছে। এ কার্য সমূহের কর্তা ও নিয়স্তা যে কেবল এক ঈশ্বর তাহা ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ৮২ সুক্ত, ১২১ সুক্ত ১২৯ সুক্ত এবং অন্যান্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে।
১। হে মেধাবী অশ্বিদ্বয়! তোমরা অদ্য তিন বার আমাদরে জন্য এস। তোমাদের রথ বহুব্যাপী, তোমাদের দানও বহু ব্যাপী? যেরূপ রশ্মিযুক্ত দিবস ও হিমযুক্ত রাত্রের মধ্যে পরস্পর নিয়মরূপ সম্বন্ধ আছে, সেরূপ তোমাদের উভয়ের মধ্যেও আছে। তোমরা অনুগ্রহ করে মেধাবী ঋত্বিকদের বশবর্তী হও।
২। তোমাদের মধুর খাদ্যবাহী রথে তিনটি দৃঢ় চক্র আছে; তা সকল দেবগণ চন্দ্রের ভার্ষা বেনার সাথে যাত্রা করবার সময় জেনেছে (১); সে রথের উপর অবলম্বনের জন্য তিনটি স্তম্ভ স্থাপিত আছে। হেজ অশ্বিদ্বয়! সে রথে রাত্রে তিন বার ও দিনে তিন বার গমন কর।
৩। হে অশ্বিদ্বয়! তোমরা এক দিনে তিন বার যজ্ঞানুষ্ঠানের দোষ সংশোধনকর; অদ্য তিন বার যজ্ঞের হব্য মধুর রস দ্বারা সিক্ত কর। রাত্রে দিনে তিন বার বলকারী অন্ন দ্বারা আমাদের ভরণ কর।
৪। হে অশ্বিদ্বয়! আমাদরে গৃহে তিন বার এস; আমাদরে অনুকুল ব্যাপারে নিযুক্ত জনের নিকট তিন বার এস; তোমরা রক্ষণীয় জনের নিকট তিন বার এস; আমাদের তিন প্রকার শিক্ষা দাও; আমাদের তিন বার আনন্দজনক ফল প্রদান কর; যেরূপ ইন্দ্র জল দান করেন, সেরূপ তিন বার আমাদরে অন্ন দাও।
৫। হে অশ্বিদ্বয়! তিন বার আমাদরে ধন প্রদান কর; দেব যুক্ত কর্মানুষ্ঠানে তিন বার আগমন কর; তিন বার আমাদরে বুদ্ধি রক্ষা কর; তিন বার আমাদের সৌভাগ্য সম্পাদন কর; তিন বার আমাদের অন্ন প্রদান কর; তোমাদের ত্রিচক্র রথে সূর্যের দুহিতা আরুঢ়া হয়েছেন।
৬। হে অশ্বিদ্বয়! আমাদের দিব্যলোকের ঔষধি তিন বার প্রদান কর; পার্থিব ঔষধি তিন বার প্রদান কর; অন্তরীক্ষ হতে ঔষধি তিন বার প্রদান কর; শংযুর (২) ন্যায় আমার সন্তানকে সুখ দান কর। হে শোভনীয় ঔষধিপালক! তোমরা তিনটি ধাতু বিষয়ক (৩) সুখ প্রদান কর।
৭। হে অশ্বিদ্বয়! তোমরা আমাদের পূজনীয়, প্রতিদিন তিন বার পৃথিবীতে আগমন করে তিনটি কক্ষাযুক্ত কুশোপরি শয়ন কর। হে নাসত্য রথীদ্বয়! আত্মারূপ বায়ু যেরূপ শরীর সমূহে আগমন করে তোমরা সেরূপ তিনটি যজ্ঞস্থানে আগমন কর (৪)
৮। হে অশ্বিদ্বয়! সপ্ত মাতৃ জল দ্বারা (৫) তিনটি সোমাভিষব প্রস্তুত হয়েছে। তিনটি কলস প্রস্তুত হয়েছে, হব্য প্রস্তুত হয়েছে। তোমরা তিন জগৎ হতে উর্ধ্বে গমন করে দিবারাত্র সমন্বিত আকাশের সূর্যকে রক্ষা করেছিলে।
৯। হে নাসত্য অশ্বিদ্বয়! তোমার ত্রিকোণ রথের তিনটি চক্র কোথায়? তিনটি সনীড় বন্ধুর কোথায় (৬)? বলবান গর্ন্দভ কখন তোমাদের রথে যুক্ত হয়ে আমাদরে যজ্ঞে আনবে?
১০। হে নাসত্য অশ্বিদ্বয়! এসহবাদান করছি; তোমাদের মধুপায়ী মুখ দ্বারা মধুর হব্য পান কর; ঊষাকালের পূর্বেই সূর্য তোমাদের বিচিত্র ও ঘৃতবৎ রথযজ্ঞে আগমনার্থে প্রেরণ করেছেন।
১১। হে নাসত্য অশ্বিদ্বয়! ত্রিগুণ একাদশ দেব (৭) গণের সাথে মধু পানার্থে এখানে এস, আমাদরে আয়ু বর্ধন কর; পাপ খনডন কর; বিদ্বেষীদের প্রতিষেধ কর; আমাদের সঙ্গে অবস্থান কর।
১২। হে অশ্বিদ্বয়! ত্রিকোণ রথ দ্বারা আমাদের সম্মুখে বীরযুক্ত ধন আন; রক্ষার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান করছি, তোমরা শ্রবণ করছ, আমাদরে বৃদ্ধি সাধন কর ও সংগ্রামে বলদান কর।
টীকা
১। যখন সোমের বেনার সাথে বিবাহ হয়, তখন নানাবিধ খাদ্যযুক্ত তিন চক্রযুক্ত প্রৌঢ়রথে আরোহণ করে অশ্বিদ্বয় গিয়েছিলেন তা সকল দেব জেনেছেন। সায়ণ।
২। বৃহস্পতির পুত্র শংযুকে অশ্বিদ্বয় পালন করেছিলেন। সায়ণ।
৩। বাত, পিত্ত ও শ্লেষ্ম এই শরীরের তিনটি ধাতু। সায়ণ।
৪। ঘৃত, পশু ও সোমরসরূপ তিনটি বেদী। সায়ণ।
৫। সপ্ত সংখ্যকা। গঙ্গাদ্যা নদ্যো মাতরৎ উৎপাদিকা যেষাং জলবিশেষাণাং তে। সায়ণ
৬।বে যুক্ত কর্মানুষ্ঠানে তিন বার আগমন কর; তিন বার আমাদরে বুদ্ধি রক্ষা কর;
৭। এ ঋকে ও বেদের অন্যান্য স্থলে ৩৩ দেবের উল্লেখ আছে। এ ৩৩ জন দিক দেবকে? তৈত্তিরীয় সংহিতায় আছে যে আকাশে ১১, পৃথিবীতে ১১ এবং অন্তরীক্ষে ১১ জন দেব। তে, সং,
১।৭।১০।১ শর্ত পথব্রাহ্মণে বলে ৮ বসু, ১১ রুদ্র, ১২ আদিত্য দ্যু অর্থাৎ আকাশ এবং পৃথিবী এই ৩৩ জন দেবতা। শ,ব্রা,
৭।৫।৭।২। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ বলে যে ১১ প্রবাজ দেব, ১১ অনুযাজ দেব ও ১১ উপযাজ দেব, এই ৩৩ দেবতা। ঐ.ব্র.
২।১৮। বিষ্ণুপুরাণে বলে ১১ রুদ্র, ১২ আদিত্য, ৮ বসু, এবং প্রজাপতি ও বষটকার এই ৩৩ জন দেবতা। যাস্কের মতে দেব ৩ জন মাত্র, তাহা ১ সুক্তের ১ ঋকের টীকায় দেখান হয়েছে। এ ৩৪ সুক্তের ১১ ঋকে ৩৩ জন দেবের উল্লেখ পেলাম। পরে পুরাণাদি গ্রন্থে ৩৩ কোটি দেবের উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলতঃ ভিন্ন ভিন্ন ঐশ্বরিক কার্য বাদৃশ্যকে ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়া দেবের সংখ্যা বদি্ধি করা হয়েছে। এ কার্য সমূহের কর্তা ও নিয়স্তা যে কেবল এক ঈশ্বর তাহা ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ৮২ সুক্ত, ১২১ সুক্ত ১২৯ সুক্ত এবং অন্যান্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ