তৃতীয় মণ্ডল: সুক্ত - ৩৩

অনুবাদ
১। বজ্রধারী ইন্দ্র প্রথমে যে পরাক্রমের কর্ম সম্পাদন করেছিলেন, তার সে কর্মসমূহ বর্ননা করি। তিনি হিকে (মেঘকে) হনন করেছিলেন, তৎপর বৃষ্টি বর্ষন করেছিলেন, বহনশীল পর্বতীয় নদী সমূহের (পথ) ভেদ করে দিয়েছিলেন (১)।

২। ইন্দ্র পর্বতাশ্রিত আহিকে (২) হনন করেছিলেন; ত্ষ্টা ইন্দ্রের জন্য সূদুর পাতী বজ্র নির্মান করেছিলেন; তারপর যেরূপ গাভী সবেগে বৎসের দিকে যায়, ধারাবাহী জল সেরূপ সবেগে সমুদ্রাভিমূখে গমন করেছিলেন।

৩। ইন্দ্র বৃষের ন্যায় বেগের সাথে সোম গ্রহণ করেছিলেন; ও তা দিয়ে অিহদিগের মধ্যে প্রথমজাতকেহ হনন করেছিলেন।

৪। যখন তুমি অহিদিগের মধ্যে প্রথমে জাততে হনন করলে, তখন তুমি মায়াবীদিগের মায়া বিনাশ করার পর সূর্য ও ঊষাকাল ও আকাশে প্রকাশ করে আর শত্রু রাখলে না।

৫। জগতের আবরণীকারী বৃত্রকে ইন্দ্র মহাধ্বংসকারী বজ্র দ্বারা ছিন্নবাহন করে বিনাশ করলেন, কুঠারছিন্ন বৃক্ষস্কন্ধের ন্যায় অহি পৃথিবী স্পর্শ করে পড়ে আছে।

৬। দর্পষুত বৃত্ত আপনার সমতুল্য যোদ্ধা নেই মনে করে মহাবীর ও বহু বিনাশী ও শত্রু বিজয়ী ইন্দ্রকে যুদ্ধে আহ্বান করেছিলেন। ইন্দ্রের বিনাশকার্য হতে রক্ষা পেল না। ইন্দ্রশত্রু বৃত্ত নদীতে পতিত হয়ে নদীসমূহকে পিষ্ট করে ফেলল।

৭। হস্ত-পদ-শুন্য বৃত্ত ইনদ্রকে যুদ্ধে আহআন করলে, ইন্দ্র তার সানু তুল্য পৌঢ় স্কন্ধে বজ্র আঘাত করলেন; যেরূপ পুরুষত্বহীন ব্যক্তি পুরুষত্ব সম্পন্ন ব্যক্তির সাদৃশ্য লাভ করতে বৃথা যত্ন করে, বত্রও সেরূপে বৃথা যত্ন করল; বুসঊথানে ক্ষূত হয়ে বৃত্ত ভূমিতে পড়ল।

৮। ভগ্নকূলকে অতিক্রম করে নদ যেরূপ বয়ে যায়, মনোহর জল সেরূপ পতিত বৃত্রদেহকে অতিক্রম করে যাচ্ছে; বৃত্ত জীবন্দশায় নিজ মহিমাদ্বারা যে জলকে বন্ধ করে রেখেছিল, অহি এখন সে জলের পদের নীচে শয়ন করল।

৯। বৃত্রের মাতা তির্যকভাবে রইল, তখন ইন্দ্র তার অধোভাগে অস্ত্রাঘাত করলেন, তখন মাতা উপরে ও পুত্র নীচে রইল, তারপর বঃসের সাথে ধেনুর ন্যায় বৃত্তের মাতা দনু শুয়ে পড়ল।

১০। স্থিতি রহিত বিশ্রাম রহিত জলের মধ্যে নিহিত, নাম শুন্যা শরীরের উপর দিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে; ইন্দ্রশত্রু দীর্ঘ নির্দায় পতিত রয়েছে।

১১। পনির দ্বারা গাভী সকল যেরুপ গুপ্ত ছিল, বৃত্তপত্নী সমূহ অহি রক্ষিত হয়ে সেরুপ নিরুদ্ধ হয়েছিল; জেলর বহন দ্বারা রুদ্ধ ছিল, বৃত্তকে হনন করে ইন্দ্র সে দ্বার খুলে দিয়েছেন।

১২। হে ইন্দ্র! যখন সেই এক দেব বৃত্ত (৩) তোমরবজ্রের প্রতি আঘাত করেছিল, তখন তুমি অশ্বপুচ্ছে ন্যায় হয়ে আঘাত নিবারণ করেছিলে; তুমি গহাভী জয় করেছ, সোমরস জয় করেছ এবং সপ্তসিন্ধু প্রবাহ ছেড়ে দিয়েছ।

১৩। ইন্দ্র ও অহি যখন যুদ্ধ করেছিলেন এবং অহি যে বিদ্যুৎ বা মেঘ গর্জন, বা জলবর্ষন বা বজ্র ইন্দ্রের প্রতি প্রয়োগ করেছিল, তা ইন্দ্রকে স্পর্শ করল না; এবং ইন্দ্র অন্যান্য মায়াও জয় করেছিলেন।

১৪। হে ইন্দ্র! অহীকে হনন করবার সময় যখন তোমার হৃদয়ে ভয় সঞ্চার হয়েছিল, তখন তুমি তখন তুমি অহির অন্য কোন হস্তার জন্য প্রতীক্ষা করেছিলে, যে ভীত হয়ে শ্যেন পক্ষীর ন্যায় নবনবতি নদ ও জল পর হয়েঢ গিয়েছিলে?

১৫। বজ্রবাহু ইন্দ্র স্থাবর ও জঙ্গমদের এবং শান্ত পশু ও শৃঙ্গী পশুদের রাজা হলেন; তিনি মনুষ্যদের রাজা হয়ে নিবাস করেছেন, এবং যেরূপ চক্রের নেমি মধ্যস্থা কাষ্ঠ সমূহকে ধান করে, সেরুপ ইন্দ্র সকলকে আপনার মধ্যে ধারণ করেছিলেন (৪)।

টীকা
১। পুরাণে যে বৃত্ত নামক অসূরের সাথে ইন্দ্রের যুদ্ধ সম্বন্ধীয় আখ্যান আছে, তার উৎপত্তি আমরা এই সূত্রে পাই। মেঘের নাম বৃত্র বা অহি, ইন্দ্র মেঘকে বজ্র দ্বারা আঘাত করে বৃষ্টি বর্ণণ করেছেন, এরূপে উপলদ্ধি করে ঋগ্বেদে ঋষিগণ উপমা ও কল্পনাপূর্ণ কবিতা লিখেছেন, তা হতে পৌরাণিক বৃত্র অসুরের গল্প উৎপন্ন। বৃত্রের সাথে বৃত্রহস্তার ধুনদ্ধর গল্প প্রাচীন আর্যদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, সুতরাং হিন্দু ভিন্ন অন্যান্য আর্য জাতির মধ্যেও এ গল্প দেখা যায়। ইরানীয়দিগের অবস্থায় বৃত্তহস্তার অনেক উপাসনা আছে। br>
২। “অহিং মেঘং। সায়ণ। অহি ও বৃত্র একই, ৫ ঋক দেখুন।

৩। বৃত্রকে এখানে দেব বলা হয়েছে। ২৪ সুক্তের ১৪ ঋকের টীকা দেখুন।

৪। ইন্দ্র পণিকে জয় করে দেবগণের গাভী উদ্ধার করেন, এ সম্বন্ধে একটি গল্প আছে তা প্রাত:কালে অন্ধকার বিনাশ ও আলোক প্রকাশ সম্বন্ধে উপমা দেওয়া হয়েছে মাত্র।

৬। সুক্তের ৫ ঋকের টীকা দেখুন। ইন্দ্র বৃত্র বা অহিকে হনন করেন বলে বৃত্রহনন বলা আছে, তাও মেঘ হতে বৃষ্টিপাতন সম্বন্ধে উপমা ঘটিত গল্প। ইউরোপীয় দুজন পণ্ডিত বিবেচনা করেন বৃষ্টিপাতন প্রাত:কালে আলোক প্রকাশ এ দুটি প্রকৃতির কার্য দেখেই আর্যগণ প্রথমে ধর্মজ্ঞান লাভ করেন। বলেছেন। কিন্তু এ মতদ্বয় ইউরোপীয়গণ উদ্ভাব করেন নি। খষ্টের বহুশতাব্দি পূর্বে যাস্ক তার নিরুক্তে বৈদিক উপাখ্যানগুলির এ মুল নির্দেশ করে গেছেন। বৃত্র অর্থে জল অবরোধকারী মেঘ মাত্র নিরুক্ত ২।১৬। অশ্বিদ্বয় বৃকমুখ হতে বর্ত্তিকা পক্ষীকে উদ্ধার করেন, তার অর্থ রাতের অন্ধকার হতে আলোক প্রকাশ হয়, নিরুক্ত 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিষ্ণু দশ অবতারের পরিচয়

বেদের চনৎকার কিছু শ্লোক।

হিন্দুদের দৈনিক প্রার্থনার মন্ত্র