তৃতীয় মণ্ডল: সুক্ত - ২৩
অনুবাদ
১। হে বায়ু! এ তীব্র ও সুপাক বিশিষ্ট সোমরস সমূহ অভিষুত হয়েছে, তুমি এস; সে সোমরস আনীত হয়ছে, পান কর।
২। আকাশবাসী ইন্দ্র ও বায়ু উভয় দেবকে এ সোমপানার্থে আমি আহ্বান করি।
৩। যজ্ঞপালক ইন্দ্র ও বায়ু মনের ন্যায় বেগসম্পন্ন ও সহস্রাক্ষ (১) মেধাবী লোকে রক্ষণার্থে তাদের আহ্বান করেন।
৪। মিত্র ও বরুণ শুদ্ধবল ও যজ্ঞদেশে প্রাদুর্ভূত হন, আমরা তাদের সোমপানার্থে আহ্বান করি।
৫। যে মিত্র ও বরুণ সত্য দ্বারা যজ্ঞ বৃষদ্ধ করেন ও যজ্ঞের জ্যোতি পালন করেন, তাদের আমি আহ্বান করি।
৬। বরুণ ও মিত্র সকল প্রকার রক্ষণ কার্যদ্বারা আমাদের রক্ষা করুন, তারা আমাদরে প্রভূত ধনযুক্ত করুন।
৭। মরুদগণের সাথে ইন্দ্রকে সোমপানার্থে আহ্বান করি, তিনি মরুৎগণের সাথে তৃপ্ত হোন।
৮। হে দেব মরুৎগণ! ইন্দ্র তোমাদের মুখ্য, পুষা (২) তোমাদের দাতা, আমার আহগ্বান সকলে শ্রবণ কর।
৯। হে দানশীল। মরুৎগণ। বলবান ও তোমাদের সহায়ভূত ইন্দ্রের সাথে শত্রুকে বিনাশ কর, যেন সে দুমুখ আমাদের উপর আধিপত্য না পায়।
১০। সমস্ত মরুৎ দেবগণকে সোমপানার্থে আহ্বান করি, তাঁরা উগ্র ও পৃষ্নির (৩) সন্তান।
১১। হে নেতৃগণ? যখন তোমরা শোভনীয় (যজ্ঞকার্য) প্রাপ্ত হও, তখন বিজয়ীদের নাদের ন্যায় মরুৎগণের সদর্প রব আসে।
১২। দীপ্তিকর বিদ্যুৎ হতে উৎপন্ন মরুৎগণ আমাদের রক্ষা করুন ও সুখী করুন।
১৩। হে দীপ্তিযুক্ত শীঘ্রগামী পুষা! পশু হারিয়ে গেলে লোকে যেরূপ তাকে (অন্বেষণ করে) আনে, তুমি সেরূপ আকাশ হতে বিচিত্র কুশসংযুক্ত যজ্ঞ ধারক সোম আন।
১৪। দীপ্তিযুক্ত পূষা গুহাস্থিত ও লুক্কায়িত বিচিত্র কুশসংযুক্ত দীপ্যমান সোম পেলেন।
১৫। এবং সে পূষা আমার জন্য সোমের সাথে ছয়্ঋতু ক্রমান্বয়ে বার বার এনেছিলেন, কৃষক যেরূপ গরু দ্বারা বার বার যব চাষ করে।
১৬।আমরা যজ্ঞ কামনা করি, আমাদরে মাতৃস্থানীয় জল যজ্ঞ পথ দিয়ে যাচ্ছে; সে জল আমাদের হিতকারী বন্ধু এবং দুগ্ধকে মিষ্ট করছে।
১৭। এই যে সমস্ত জল সূর্যের সমীপে আছে, অথবা সূর্য যে সমস্ত জলের সাথে আছেন, সে সমস্ত জল আমাদরে যজ্ঞ প্রীতিকর করুক।
১৮। যে জল আমাদের গাভী সকল পান করে, সে জলদেবীকে আহ্বান করি। যে জল নদীরূপে বয়ে যাচ্ছে, তাদের হব্য দেওয়া কর্তব্য।
১৯। জলের ভিতর অমৃত আছে, জলে ঔষধ আছে, হে ঋষিগণ! সে জলের প্রশংসায় উৎসাহী হও।
২০। সোম আমাকে বলেছেন জলের মধ্যে সকল ঔষধি আছে এবং জগতের সুখকর অগ্নি আছে, এবং সকল প্রকার ভেষজ আছে।
২১। হে জল! আমার শরীরের জন্য রোগ নিবারক ঔষধি পরিপুষ্ট কর, যেন আমরা বহুকাল সূর্যকে দেখতে পাই।
২২। আমাতে যা কিছু দুষ্কৃত আছে, আমি যে কিছু অন্যায়াচরণ করেছি, আমি যে শাপ দিয়েছি, আমি যে অসত্য বলেছি, হে জল! সে সমস্ত ধৌত কর।
২৩। অদ্য স্মান হেতু জলে প্রবেশ করছি, জলরসে সঙ্গত হয়েছি; হে জলস্থিত অগ্নি! এস, আমাকে তেজ:পূর্ণ কর।
২৪। হে অগ্নি! আমাকে তেজ ও সন্ততি ও পরমায়ু দান কর; যেন দেবগণ আমার (অনুষ্ঠান) জানতে পারেন, যেন ইন্দ্র ও ঋষিগণ জানতে পারেন।
টীকা
১। যদিও উভয় বিশেষণই উভয় দেব সম্বন্ধে প্রয়োগ হয়েছে, তথাপি মনের ন্যায় বেগসম্পন্ন বায়ুর সম্বন্ধে ও সহস্রাক্ষ ইন্দ্রের সম্বন্ধে খাটে। ইন্দ্রকে সহস্রাক্ষ বলে কেন? আকাশ বিস্তীর্ণ, অথবা বহুনক্ষত্র বিভূষিত, এ জন্য তাঁকে সহস্রাক্ষ বলা হয়েছে। এ উপমা হতে ইন্দ্রের সহস্রাক্ষ সম্বন্ধীয় পৌরাণিক আখ্যান সৃষ্ট হয়।
২। পুষা সম্বন্ধে ৪২ সূক্তের ১ ঋকের টীকা দেখুন।
৩। পৃশ্মি অর্থ নানা বর্ণযুক্ত। নানা বর্ণযুক্তা মরুৎগণের মাতা কে? সায়ণের মতে পৃশ্মি অর্থ পৃথিবী। কিন্তু নিঘন্টু নামক প্রাচীন সংস্কৃত অভিধানে পৃশ্মি অর্থে আকাশ। রোথ প্রভৃতি ইউরোপীয় পন্ডিতগণ পৃশ্মি অর্থে শমঘ করেছেন।
১। হে বায়ু! এ তীব্র ও সুপাক বিশিষ্ট সোমরস সমূহ অভিষুত হয়েছে, তুমি এস; সে সোমরস আনীত হয়ছে, পান কর।
২। আকাশবাসী ইন্দ্র ও বায়ু উভয় দেবকে এ সোমপানার্থে আমি আহ্বান করি।
৩। যজ্ঞপালক ইন্দ্র ও বায়ু মনের ন্যায় বেগসম্পন্ন ও সহস্রাক্ষ (১) মেধাবী লোকে রক্ষণার্থে তাদের আহ্বান করেন।
৪। মিত্র ও বরুণ শুদ্ধবল ও যজ্ঞদেশে প্রাদুর্ভূত হন, আমরা তাদের সোমপানার্থে আহ্বান করি।
৫। যে মিত্র ও বরুণ সত্য দ্বারা যজ্ঞ বৃষদ্ধ করেন ও যজ্ঞের জ্যোতি পালন করেন, তাদের আমি আহ্বান করি।
৬। বরুণ ও মিত্র সকল প্রকার রক্ষণ কার্যদ্বারা আমাদের রক্ষা করুন, তারা আমাদরে প্রভূত ধনযুক্ত করুন।
৭। মরুদগণের সাথে ইন্দ্রকে সোমপানার্থে আহ্বান করি, তিনি মরুৎগণের সাথে তৃপ্ত হোন।
৮। হে দেব মরুৎগণ! ইন্দ্র তোমাদের মুখ্য, পুষা (২) তোমাদের দাতা, আমার আহগ্বান সকলে শ্রবণ কর।
৯। হে দানশীল। মরুৎগণ। বলবান ও তোমাদের সহায়ভূত ইন্দ্রের সাথে শত্রুকে বিনাশ কর, যেন সে দুমুখ আমাদের উপর আধিপত্য না পায়।
১০। সমস্ত মরুৎ দেবগণকে সোমপানার্থে আহ্বান করি, তাঁরা উগ্র ও পৃষ্নির (৩) সন্তান।
১১। হে নেতৃগণ? যখন তোমরা শোভনীয় (যজ্ঞকার্য) প্রাপ্ত হও, তখন বিজয়ীদের নাদের ন্যায় মরুৎগণের সদর্প রব আসে।
১২। দীপ্তিকর বিদ্যুৎ হতে উৎপন্ন মরুৎগণ আমাদের রক্ষা করুন ও সুখী করুন।
১৩। হে দীপ্তিযুক্ত শীঘ্রগামী পুষা! পশু হারিয়ে গেলে লোকে যেরূপ তাকে (অন্বেষণ করে) আনে, তুমি সেরূপ আকাশ হতে বিচিত্র কুশসংযুক্ত যজ্ঞ ধারক সোম আন।
১৪। দীপ্তিযুক্ত পূষা গুহাস্থিত ও লুক্কায়িত বিচিত্র কুশসংযুক্ত দীপ্যমান সোম পেলেন।
১৫। এবং সে পূষা আমার জন্য সোমের সাথে ছয়্ঋতু ক্রমান্বয়ে বার বার এনেছিলেন, কৃষক যেরূপ গরু দ্বারা বার বার যব চাষ করে।
১৬।আমরা যজ্ঞ কামনা করি, আমাদরে মাতৃস্থানীয় জল যজ্ঞ পথ দিয়ে যাচ্ছে; সে জল আমাদের হিতকারী বন্ধু এবং দুগ্ধকে মিষ্ট করছে।
১৭। এই যে সমস্ত জল সূর্যের সমীপে আছে, অথবা সূর্য যে সমস্ত জলের সাথে আছেন, সে সমস্ত জল আমাদরে যজ্ঞ প্রীতিকর করুক।
১৮। যে জল আমাদের গাভী সকল পান করে, সে জলদেবীকে আহ্বান করি। যে জল নদীরূপে বয়ে যাচ্ছে, তাদের হব্য দেওয়া কর্তব্য।
১৯। জলের ভিতর অমৃত আছে, জলে ঔষধ আছে, হে ঋষিগণ! সে জলের প্রশংসায় উৎসাহী হও।
২০। সোম আমাকে বলেছেন জলের মধ্যে সকল ঔষধি আছে এবং জগতের সুখকর অগ্নি আছে, এবং সকল প্রকার ভেষজ আছে।
২১। হে জল! আমার শরীরের জন্য রোগ নিবারক ঔষধি পরিপুষ্ট কর, যেন আমরা বহুকাল সূর্যকে দেখতে পাই।
২২। আমাতে যা কিছু দুষ্কৃত আছে, আমি যে কিছু অন্যায়াচরণ করেছি, আমি যে শাপ দিয়েছি, আমি যে অসত্য বলেছি, হে জল! সে সমস্ত ধৌত কর।
২৩। অদ্য স্মান হেতু জলে প্রবেশ করছি, জলরসে সঙ্গত হয়েছি; হে জলস্থিত অগ্নি! এস, আমাকে তেজ:পূর্ণ কর।
২৪। হে অগ্নি! আমাকে তেজ ও সন্ততি ও পরমায়ু দান কর; যেন দেবগণ আমার (অনুষ্ঠান) জানতে পারেন, যেন ইন্দ্র ও ঋষিগণ জানতে পারেন।
টীকা
১। যদিও উভয় বিশেষণই উভয় দেব সম্বন্ধে প্রয়োগ হয়েছে, তথাপি মনের ন্যায় বেগসম্পন্ন বায়ুর সম্বন্ধে ও সহস্রাক্ষ ইন্দ্রের সম্বন্ধে খাটে। ইন্দ্রকে সহস্রাক্ষ বলে কেন? আকাশ বিস্তীর্ণ, অথবা বহুনক্ষত্র বিভূষিত, এ জন্য তাঁকে সহস্রাক্ষ বলা হয়েছে। এ উপমা হতে ইন্দ্রের সহস্রাক্ষ সম্বন্ধীয় পৌরাণিক আখ্যান সৃষ্ট হয়।
২। পুষা সম্বন্ধে ৪২ সূক্তের ১ ঋকের টীকা দেখুন।
৩। পৃশ্মি অর্থ নানা বর্ণযুক্ত। নানা বর্ণযুক্তা মরুৎগণের মাতা কে? সায়ণের মতে পৃশ্মি অর্থ পৃথিবী। কিন্তু নিঘন্টু নামক প্রাচীন সংস্কৃত অভিধানে পৃশ্মি অর্থে আকাশ। রোথ প্রভৃতি ইউরোপীয় পন্ডিতগণ পৃশ্মি অর্থে শমঘ করেছেন।
মন্তব্যসমূহ